
ঘুষ, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ হাসান ২০২২ সালের ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা ধরনের দুর্নীতি ও বেআইনি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।সূত্র জানায়, মোঃ হাসান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিআরটিএর বিভিন্ন সেবাকে ঘুষ-নির্ভর বানিয়ে তুলেছেন। সরকারি পরিচয়ের আড়ালে থেকে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ কিছু সহকর্মী ও দালালচক্র একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যারা লাইসেন্স পরীক্ষা, ফিটনেস সনদ প্রদানসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবায় ঘুষ ছাড়া কিছুই করে না।ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ১২ হাজার টাকা ঘুষ!একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় পাস করতে হলে দিতে হয় ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ। যাঁরা ঘুষ দিতে অপারগ, তাঁদের ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল দেখিয়ে পুনঃপরীক্ষায় পাঠানো হয় কিংবা নানা প্রকার হয়রানি ও মানসিক চাপে রাখা হয়।একজন ভুক্তভোগী জানান,“আমি ঘুষ না দেওয়ায় পরীক্ষায় ফেল দেখানো হয়েছে। অথচ আমার সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়া একজন ব্যক্তি মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে পাস করেছেন। এটা কতটা বৈধ?”ফিটনেস পরীক্ষাতেও অর্থের খেলাঅভিযোগ রয়েছে, গাড়ির ফিটনেস সনদ পেতে গড়ে প্রতি যানবাহনের জন্য দিতে হয় ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ ঘুষ। না হলে গাড়িকে নানা অজুহাতে ‘অনুপযুক্ত’ ঘোষণা করা হয়। এমনকি নতুন গাড়ির ক্ষেত্রেও ফিটনেস সনদের জন্য ঘুষ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগএকাধিক সূত্র দাবি করছে, ঘুষের টাকায় মোঃ হাসান রাজধানীর অভিজাত এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক হয়েছেন। এছাড়া নামে-বেনামে ব্যাংকে রয়েছে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা। যদিও এই সকল সম্পদের কোনও বৈধ উৎস নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।দুদকের তদন্ত দাবি সচেতন মহলেরস্থানীয় জনসাধারণ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, দুর্নীতির মাধ্যমে বিআরটিএ’র সেবার মান মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়েছে। তাঁরা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন—এই কর্মকর্তা ও তাঁর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা জরুরি।একজন স্থানীয় সাংবাদিক বলেন,“এমন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এই দুর্নীতির চক্র কখনই ভাঙবে না।”যোগাযোগে অনীহা অভিযুক্ত কর্মকর্তারএ বিষয়ে অভিযুক্ত মোটরযান পরিদর্শক মোঃ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।সাংবাদিক নোট:এই প্রতিবেদনটি একটি চলমান অনুসন্ধানের অংশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাড়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রাপ্তির পর আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।