
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নেতা মুফতি ইসমাইল সিরাজী আল মাদানী ওরফে কাওসারের বিরুদ্ধে কানাডার টুরিস্ট ভিসার নামে ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ ও ভুক্তভোগীদের কার্যালয়ে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মাজহারুল ইসলাম এই অভিযোগ করেছেন।অভিযোগকারী মাজহারুল ইসলাম জানান, লর্ড ট্রাভেলস এন্ড টুরিস্ট-এর চেয়ারম্যান ইসমাইল সিরাজীর সাথে তার দুই ক্লায়েন্ট কামরুল ইসলাম জুয়েল ও আব্দুল আজিজের কানাডা যাওয়ার বিষয়ে ৩২ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর ও ডিসেম্বরে দুই দফায় নগদ ৫ লক্ষ টাকা (৩ লক্ষ ও ২ লক্ষ) গ্রহণ করেন ইসমাইল সিরাজী, যার লিখিত স্ট্যাম্প চুক্তিও রয়েছে।কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পার হলেও ভিসা না দিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করেন তিনি। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে গত ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের নওয়াব আলী টাওয়ারে অবস্থিত লর্ড ট্রাভেলসের অফিসে মাজহারুল ইসলাম ও তার ক্লায়েন্ট আব্দুল আজিজকে ডেকে নেওয়া হয়।ভুক্তভোগীদের দাবি, অফিসে টাকা ফেরত চাইলে ইসমাইল সিরাজী ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আব্দুল আজিজ একজন হার্টের রোগী হওয়া সত্ত্বেও তাকে ওষুধ খেতে দেওয়া হয়নি এবং ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা হাতজোড় করে ক্ষমা চাইলেও আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তিনি (সিরাজী) হুমকি দিয়ে বলেন, তোরা মারা গেলে আমার টাকা দেওয়া লাগবে না।”ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা থানায় জিডি করতে গেলে জানতে পারেন, ইসমাইল সিরাজী নিজেই উল্টো তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে রেখেছেন। মাজহারুল ইসলামের দাবি, তারা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের উচ্চপদস্থ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান বা বিচার পাননি।ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ইসমাইল সিরাজী ও তার অনুসারীরা তাদের নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে মাজহারুল ইসলাম, আব্দুল আজিজ ও কামরুল পাশা জুয়েলসহ তাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আত্মসাৎকৃত ৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।