তাল পাতার টুপি পরিহিত এক বিস্ময় মহা নায়ক

Spread the love

আবদুল হামিদ খান ভাসানী (১২ ডিসেম্বর ১৮৮০ – ১৭ নভেম্বর ১৯৭৬), যিনি মাওলানা ভাসানী নামেই সমধিক পরিচিত, ছিলেন বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের নেতা, যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে “মজলুম জননেতা” হিসাবে সমধিক পরিচিত।[১] ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি চীনের মাওপন্থী কম্যুনিস্ট তথা বামধারার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।[২] তাছাড়াও উপমহাদেশে কম্যুনিস্ট ধারার রাজনীতির প্রসারে তার বিশেষ অবদান ছিল। এজন্য তার অনুসারীরা তাকে “লাল মওলানা” নামেও ডাকতেন।[৩][৪] তিনি কৃষকদের জন্য পূর্ব পাকিস্তান কৃষক পার্টি করার জন্য সারাদেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।[৫]
তিনি ১৯৩৬ – ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত আসাম বিধানসভার সদস্য ছিলেন

তার নির্বাচনী এলাকা ছিল ,
ধুবড়ী (দক্ষিণ)

তিনি ১৯৫৪ – ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের সংসদ সদস্য ছিলেন।
তখনকার গভর্নর ছিলেন :- ইস্কান্দার মির্জা।

তিনি ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ – ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ছিলেন।

আওয়ামী লীগের ১ম সভাপতি ও ছিলেন তুখোড় এই রাজনীতিবীদ।

জন্ম:-
আবদুল হামিদ খান
১২ ডিসেম্বর ১৮৮০
পাবনা জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা, বাংলাদেশ) এ জন্মগ্রহন করেন।

তিনি শিক্ষা গ্রহন করেন দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে।
আব্দুল বারী চিশতী,সাইয়্যেদ নাসির আদ-দ্বীন আল-বাগদাদি (রহ:) এর মতো আলেমরা ছিলেন তার উস্তাদ।

তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল:- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী)।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় নানান
রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন :-
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (১৯৫৭–১৯৬৭)
নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগ (১৯৪৯–১৯৫৭)
পাকিস্তান মুসলিম লীগ (১৯৪৭–১৯৪৯)
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ (১৯৩০–১৯৪৭)
স্বরাজ দল (১৯২৩–১৯৩০) ইত্যাদি।

মওলানা সাহেব পালাক্রমে ৩ টি বিবাহ করেন।
আলেমা খাতুন,আকলিমা খাতুন,হামিদা খাতুন।
তার এই তিন স্ত্রীর গর্ভেই জন্ম নেন আবু নাসের খান ভাসানী সহ ৮ জন সন্তান।
মাওলানা ভাসানীর পিতৃ-মাতৃ পরিচয় :-
শরাফত আলী খান (পিতা)
মোসাম্মৎ মজিরন বিবি (মাতা)

পাক বাহীনির বিরুদ্ধে কড়া কথা বলায় তাকে লাল মাওলানা বলতেন পাকিস্তানিরা।
ব্যক্তিগত তথ্য

হানাফী মাযহাবের অনুসারি এই দেওবন্দী আলেম জীবনে অনেক আন্দোলন করেছেন তার মধ্যে কয়েকটি হলো :- খিলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, বাংলা ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ফারাক্কা লং মার্চ।

তাল পাতার টুপি আর সাধা সিধে পাঞ্জাবী পরে গণমানুষের নেতা হয়ে ওঠা এই সংগ্রামী মাওলানা
১৭ নভেম্বর ১৯৭৬ (বয়স ৯৫),ঢাকা, বাংলাদেশে ইন্তেকাল করেন।
তার সমাধিস্থল :- বাংলাদেশের, সন্তোষে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *