
দেওবন্দ ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সাহারানপুর জেলার একটি শহর ও পৌরসভা । দেওবন্দ দিল্লি থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মাইল) দূরে অবস্থিত।
দেওবন্দে ১৮৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া ও ব্রিটিশ ক্রাউনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের বিদ্রোহ, দারুল উলুম দেওবন্দের লার্নিং সেন্টারে ২১ মে ১৮৬৬ উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। মাওলানা মুহাম্মদ কাসিম নানতুবি দেওবন্দী ইসলামী আন্দোলনের দারুল উলুম মধ্যে এটি সংগঠিত করেন।
ভারতের প্রখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা এ শহরে অবস্থিত। এখান থেকে দেওবন্দি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ নামক স্থানে এই মাদ্রাসার অবস্থান। ১৮৬৬ সালে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত এটির প্রতিষ্ঠা করেন। মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবি তাদের প্রধান ছিলেন। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা রশীদ আহমেদ গাঙ্গুহী ও হাজী সাইদ আবিদ হুসাইন।এটি পৃথিবীর একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই মাদ্রাসার ছাত্র পুরো পৃথিবীতে অবদান রাখছে।
সুন্নি ইসলাম কেন্দ্রিক পুনর্জাগরণবাদী আন্দোলন দেওবন্দি এ শহর থেকেই শুরু হয়।[৫] এর কেন্দ্র প্রাথমিকভাবে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। বর্তমানে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকাতেও এর বিস্তার ঘটেছে। নামটি দেওবন্দ শহর নামক স্থান থেকে এসেছে। এই আন্দোলন পণ্ডিত শাহ ওয়ালিউল্লাহ (১৭০৩-১৭৬২) দ্বারা অনুপ্রাণিত। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ব্যর্থ সিপাহীবিদ্রোহের এক দশক পর ১৮৬৬ সালের ৩০ মে দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা করেন।
দেওবন্দ মাদ্রাসার ইতিহাস
মুহাম্মদ কাসিম নানোতভী, ফজলুর রহমান উসমানি, ও সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবিদসহ কয়েকজন বিশিষ্ট আলেম এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি দেওবন্দি আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছে এবং সুন্নি ইসলামের একটি পুনরুজ্জাগরণবাদী আন্দোলন হিসেবে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠা ও তাৎপর্য
প্রতিষ্ঠাতা: ফজলুর রহমান উসমানি, মুহাম্মদ কাসিম নানোতভী, সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবিদ, মেহতাব আলী, নেহাল আহমদ, ও জুলফিকার আলী দেওবন্দী ছিলেন এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম।
প্রতিষ্ঠাকাল ও স্থান: ১৮৬৬ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ শহরে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য: এটি ছিল মুসলিম সংস্কার ও শিক্ষার একটি কেন্দ্র, যা ব্রিটিশ শাসনামলে মুসলিম সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনকে পুনরুজ্জীবিত করতে চেয়েছিল।
দেওবন্দি আন্দোলন: এই মাদ্রাসা থেকে দেওবন্দি আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে, যা সুন্নি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
শিক্ষাব্যবস্থা ও বিশ্বাস
কঠোর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা: দারুল উলুম দেওবন্দ ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষাদানের উপর জোর দেয় এবং আধুনিক কিছু উদ্ভাবনকে (বিদআত) প্রত্যাখ্যান করে।
কুরআন ও সুন্নাহ: এই মাদ্রাসা কুরআন ও সুন্নাহর কঠোর আনুগত্যের উপর জোর দেয় এবং হানাফী মাযহাবের নীতি অনুসরণ করে।
ভারতের বাইরেও প্রভাব
ভারত, পাকিস্তান, अफगानिस्तान, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকাতেও দেওবন্দি আন্দোলনের বিস্তার ঘটেছে।