বন্দরে মেলার নামে চলছে মাদক,জুয়া এবং চাঁদাবাজির মহা উৎসব

Spread the love

নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে মেলার নামে চলছে জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজির মহোৎসব!

মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা শিবু দাস প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা।

…………………………………………………………..
নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে হিন্দু সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসবের আড়ালে চলছে ভয়াবহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড।

“লেজারার্স পূজা উদযাপন কমিটি”র ব্যানার ব্যবহার করে কথিত মেলা আয়োজনের নামে চলছে প্রকাশ্যে জুয়া, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং এলাকাবাসীর শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের নানাবিধ কার্যকলাপ।

এ সব অপকর্মের মূল হোতা হিসেবে স্থানীয় ২২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শিবু চন্দ্র দাস এর নাম উঠে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বন্দরের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে শিবু দাস প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান বসিয়ে দিয়েছে।

এই দোকানগুলোকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে পরিচালিত হচ্ছে জুয়ার আসর ও মাদক বিক্রির কেন্দ্র।

প্রতিদিন লাখ টাকার চাঁদা আদায় পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা।

প্রতিদিন এই মেলা থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা চাঁদা।

দোকানপ্রতি জোরপূর্বক ৭০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার দোকান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই পুরো অবৈধ কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা অবগত থাকলেও, রহস্যজনক কারণে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন।

এতে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য কি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত?

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কথিত মেলা আয়োজক কমিটি বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের ছবি ব্যানার-ফেস্টুনে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে।

তাদের ক্যাডার বাহিনীর কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

এই মেলার কারণে এলাকার তরুণ ও কিশোররা জুয়া ও মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি।

পাশাপাশি মেলা ঘিরে ১নং খেয়াঘাট ও ময়মনসিংহ পট্টি সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।

অবিলম্বে জেলা প্রশাসক, নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ক সার্কেল, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি

সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, এটি শুধুমাত্র একটি স্থানীয় অনিয়ম নয় বরং একটি পরিকল্পিত অপরাধচক্র, যা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ফুলেফেঁপে উঠেছে।
তারা দাবি জানিয়েছেন,

কথিত মেলার নামে পরিচালিত অবৈধ কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

একটি ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতাকে পুঁজি করে এইভাবে সমাজ ধ্বংসের আয়োজন কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে হস্তক্ষেপই পারে বন্দরের শান্তি ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *