
মাসদাইর এড়িয়া দিনে যতটা জমজমাট, রাতে ততটাই হিংস – ভয়ংকর। রাত্র যত গভীর হয় ততটা ভয়ংকর রুপ ধারন করে এলাকাটি।যেখানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক, নারী। তাছাড়াও ছিনাতাই নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা এখানকার। ছিনতাইর কবলে মৃত্যুর ঘটনাও অহরহ। বিশেষ করে গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায়। শ্রমিকরা যে সময়টাতে বেতন পায় অর্থাৎ প্রতিমাসের ৭থেকে ১০ তারিখ.এ সময়টায় অহরহ ঘটে ছিনতাইর ঘটনা। কিছু চিহ্নিত কিশোর গ্যাং লিডার এ ছিনতাই সেক্টরটি নিয়ন্ত্রণ করে । তাদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই, যখন যে দল আসে তারা সে দলের লোক হয়ে কাজ করে। রীতিমতো ছিনতাই আতাংকের হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর জন্য।
এবার মাদক?
পুরো মাসদাইর এরিয়া জুড়ে রয়েছে বিশাল মাদকের সিন্ডিকেট। এদের ও পরিচয় প্রায় একই। তারাও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তাদের মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে। তাদেরও রয়েছে বিশাল অস্ত্রধারী বাহিনী। যাদের আক্রমণ থেকে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা প্রশাসনও রেহায় পায়নি। মোড়ে মোড়ে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, গাজা, হেরোইন। এই সেক্টর টি যারা নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রত্যেকেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এই কুচক্রী মহলটি প্রায় সময়ই তাদের কর্তৃত্ব জানান দিতে, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহকারে বিশাল সোডাউন দেয়, এক কথায় নিজেদের শক্তি ও লোকবল জাহির করে। এলাকাবাসীকে ভীত রাখার চেষ্টা করে। ফলশ্রুতিতে প্রতিবাদ করার তেমন কেউ থাকেনা।
এদিকে মানুষজন অল্প শিক্ষিত হওয়ায়, এই এরিয়ার বসবাসরত প্রায় মানুষ এই গার্মেন্ট শ্রমিক। যার ফলে তারা অল্পতে জড়িয়ে যাচ্ছে মাদকে।আর এই মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য মানুষ হত্যা করতেও পিছপা হচ্ছে না। জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে। যা আগামী প্রজন্মের জন্য আশানি সংকেত!
সর্বশেষ জুয়া?
এলাকাটির সিংহ ভাগ মানুষজন গার্মেন্টস শ্রমিক/রিকশাচালক /দিনমজুর হওয়ায় সুবাদে গড়ে উঠেছে জোয়ার বোর্ডের বিশাল সাম্রাজ্য। মাসদাইর এলাকা জুড়ে কয়টি চিহ্নিত জুয়ারবোর্ড রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ স্থানীয় প্রভাবশালী এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে জুয়ার বাণিজ্য। এই সেক্টর টি যারা নিয়ন্ত্রণ করে তারা তুলনামূলক অনেকটা প্রভাবশালী
সর্বোপরি মাদক, ছিনতাই, জুয়া সব মিলিয়ে পুরো মাসদাইর গ্রামটি যেন হয়ে উঠেছে বসবাসের অনুপযুক্ত অঞ্চল। প্রশাসনকে উক্ত সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখার এবং স্হায়ী ভাবে বন্ধ করার জোর দাবি জানান ভুক্তভোগী এলাকাবাসী